Home / অন্যান্য / মৎস্যকন্যা রহ’স্য, সত্যিই কি তাদের অস্তিত্ব আছে?

মৎস্যকন্যা রহ’স্য, সত্যিই কি তাদের অস্তিত্ব আছে?

সাহিত্য-সিনেমা থেকে শুরু করে লোকজ সংস্কৃতিতে উপস্থিত ‘মৎসকন্যা’ নিয়ে কখনো কি ভেবেছেন? শ’রীরের উপরিভাগ না’রীর অবয়ব এবং নিচের অংশ মাছের শ’রীরের মতো দে’খতে জলরাজ্যের অসম্ভব সুন্দর এই জলপরীদের অস্তিত্ব আ’সলেই কি পৃথিবীতে আছে?

ডায়নোসরের মতো মৎস্যকন্যারাও কি হাজার বছর আগে পৃথিবীতে বাস করতো? সত্যিই কি এই জলপরীরা জীবন্ত কোনো প্রা’ণী? চলুন তবে জে’নে নেওয়া যাক মৎস্যকন্যাদের ইতিহাস এবং পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব স’স্পর্কে-

মৎস্যকন্যা কি?‘মা’রমেইড বা মৎস্যকন্যা/জলকন্যা’ নামক প্রা’ণীটি আলোচনায় এসেছে মেরফোক বা মের্পিপলের গল্প থেকে। মেরফোক নামের রহ’স্যময় এই জলজপ্রা’ণীদের পুরু’ষ অবয়বের নাম মেরম্যান ও না’রীদের বলা হয় মা’রমেইড। সমগ্র বিশ্বের সব লোককা’হিনী ও পৌরাণিক কাহিনিতে কমবেশি মা’রমেইড তথা জলজগতের এই রহ’স্যময় প্রা’ণীটি আলোচনায় এসেছে।

সেসবের প্রেক্ষিতে জা’না যায়, মানুষ এবং মাছের বৈশিষ্ট্য নিয়ে সৃষ্ট এই প্রা’ণীটি দে’খতে না’রীর মতো। যার আছে কোমর অব্দি সোনালী চুল। শ’রীরের উপরিভাগ না’রীদের মতো এবং নিচের দিক মাছের মতো লেজযুক্ত। সমুদ্রের উপরিভাগে ভেসে বেড়ানো এবং বসবাসরত এই জলপরীরা মাছের মতোই দীর্ঘসময় পানি ছাড়া থাকলে নিস্তেজ হয়ে যায়।

মৎস্যকন্যা নিয়ে আলোচনার সূচনা-মৎস্যকন্যা নিয়ে সর্বপ্রথম বর্ণনা পাওয়া যায় সম্ভবত অ্যাসিরিও সভ্যতায়। দেবী অ্যাটারগেটিস ভু’লক্রমে তার প্রে’মিককে হ’ত্যা করেন। নিজে’র ভু’ল বুঝতে পেরে অভিশপ্ত হয়ে, তিনি সমুদ্রে আত্মহ’ত্যা ক’রতে গেলে সমুদ্রদেবতা পসাইডন রূপসী এই দেবীকে মৃ’ত্যু না দিয়ে বরং অর্ধমানবী ও অর্ধমাছের শ’রীরের মৎস্যকন্যার জীবন দেন।

ব্যাবিলনীয় উপকথায় এই কাহিনিটিই আছে দেবী ‘ইয়া’কে নিয়ে। গ্রিক সাহিত্যে অ্যাটারগেটিসের বর্ণনা আছে ‘আফ্রোদিতি’ নামে। এ ছাড়াও গ্রীক সাহিত্যে অ্যাটারগেটিস ‘দেবী ডার্কেটো’ নামে পরিচিত। তার অনুসারী সাইরেন নামের একদল সামুদ্রিক প্রা’ণীর পরিচয় পাওয়া যায়। যারা সমুদ্রের নাবিকদের আকৃ’ষ্ট করে তাদের দ্বীপে নিয়ে যেতে জলকন্যা সেজে ভেসে বেড়ায় ও মোহনীয় সুরে গান গায়।

যেন নাবিকরা সুরের মূর্ছনায় প্রেমে প’ড়ে পথ ভু’ল করে এবং তাদের শি’কারে ধ’রা দেয়। কোনো কোনো ইতিহাসে এই ঘ’টনাকে সমুদ্রের দেবী মৎস্যকন্যা ও নাবিকের প্রেমময় উপ্যাখ্যান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার কোথাও বা এমন ঘ’টনার প্রচলন আছে দুষ্টপ্রা’ণী মৎস্যকন্যাদের মনুষ্যজাতির প্রতি বিদ্বেষমূ’লক আচরণের বর্হিপ্র’কাশ হিসেবে।

কেউ কেউ মনে করেন মৎস্যকন্যা ছিল প্রাচীন পূর্বাঞ্চলীয় সমুদ্রপৃষ্ঠের ভ’য়ানক ড্রাগনের স্ত্রী। যারা স্থলভাগের রাজা ও সমুদ্রপৃষ্ঠে রাজত্ব করা ড্রাগনদের মধ্যে গো’পন ত’থ্য আদানপ্রদানের বিশ্বস্তরূপে কাজ করতো। মৎস্যকন্যাদের নিয়ে আলোচনার দিক দিয়ে প্রথম সারিতে রয়েছে, খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে মেরফোকের প্রথম সারির লেখা একটি নথি যা ‘শানহাইজিং’ নামের চীনা শাস্ত্রীয় পাঠ।

যেখানে জীবজন্তু, পর্বতমালাসহ পৃথিবীর অপার্থিব ভৌগোলিক বর্ণনায় মৎস্যকন্যাদেরও উল্লেখ রয়েছে। মহাকবি হোমা’রের বিখ্যাত মহাকাব্য ‘ওডেসি’তে উল্লেখ থাকা মায়াবীপ্রা’ণী মা’রমেইড বা মৎস্যকন্যা যারা প্ররোচনাময়ী গান গেয়ে পুরু’ষ নাবিকদের আকৃ’ষ্ট করে হ’ত্যা করতো। এটিই ছিল সাহিত্যে মৎস্যকন্যা এবং তাদের মোহনীয় উপ’স্থিতি নিয়ে সর্বপ্রথম সৃষ্টি।

প্রথম দেখা মৎস্যকন্যা-আমেরিকা আবি’ষ্কারের সময়কালীন ক্রিস্টোফার কলম্বাসের লগবুকে ১৪৯৩ সালের ৯ই জানুয়ারি লেখা ঘ’টনায় মৎস্যকন্যার উল্লেখ পাওয়া যায়। কলম্বাস যখন ক্যারিবিয়ান দ্বীপ অতিক্রম করছেন; তখন না-কি তিনি না’রী অবয়বের একটি মৎস্যকন্যাকে সমুদ্রের পারে বসে থাকতে দেখেন।

তিনি সেটি লোককাহিনির মতো জাদুকর বি’ষয় হিসেবে বর্ণনা না করে, সাধারণ মানুষের মুখাবয়ব বিশিষ্ট একেকরকম মাছের উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে বিশ্লেষকরা মনে করেন কলম্বাস ম্যানাটিস বা এ জাতীয় সামুদ্রিক প্রা’ণী দেখেছিলেন যাদের দূ’র থেকে দেখলে মানুষ বলে বিভ্রান্তি হয়। ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে হেনরি হাডসনের নরওয়ে ভ্রমণের কাহিনিতেও মৎস্যকন্যা দ’র্শনের বর্ণনা পাওয়া যায়। বেরিং মহাসাগরে ঘ’টনাটি ঘ’টেছে।

মৎস্যকন্যার প্রথম গল্প-১৮৩০ সালে হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ানের লেখা একটি একক মৎস্যকন্যার ক’রুণ জীবনী যে মানুষের আত্মা’র জন্য সমুদ্রের কাছে নিজে’র জীবন বির্সজন দিয়েছিলো। এই গল্পের সুন্দর একটি সমাপ্তি দেয়া হয়েছে এবং এটিই প্রথম লেখনী যেখানে মৎস্যকন্যাদের মায়াবী ও নিদোর্ষ রূপে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধ’রেছেন লেখক।

এই গল্প থেকেই ‘দ্য লিটল মা’রমেইড’ ১৯৮৯ সালে ডিজনি প্রযোজিত প্রথম মৎস্যকন্যাদের নিয়ে নির্মিত বিখ্যাত একটি ছবি। তা ছাড়াও ডেনমা’র্কের কো’পেনহেগেন শহরে এই গল্পের মতোই একটি মৎস্যকন্যার জনপ্রিয় স্মৃ’তিস্তম্ভ আছে।

বাস্তবে মৎস্যকন্যা-এতসব ঘ’টনার পরিক্রম থেকে এটি স্পষ্ট যে, মৎস্যকন্যাদের উপ’স্থিতি নিয়ে বিশ্বা’স ও অবিশ্বা’সের যুক্তিত’র্ক সেই প্রাচীন যুগ থেকেই চলমান এবং প্রজ’ন্মের পর প্রজ’ন্ম ধ’রে সেটি চলতে থাকবে। মৎস্যকন্যা আ’সলেই আছে কি-না? এই প্রশ্নের উত্তর বাস্তবিক অর্থে অজা’না। কেননা, দ’র্শন বা পাঠ্যশাস্ত্রে বর্ণিত ঘ’টনাগুলো তাদের উপ’স্থিতির পক্ষে কোন অকাট্য দলিল বা প্রমাণ বহন করে না।

আম’রা লোককাহিনিতে যে মেরফোকের বর্ণনা পাই, যারা সমুদ্রে বাস করতো সেগুলোর অস্তিত্ব থাকতেও পারে। তবে মোহময় রূপসী এক অর্ধ-মানবী মৎস্যকন্যার যে নির্দিষ্ট অবয়বটি আম’রা সাহিত্য, সিনেমা বা আমাদের মনোজগতে স্থিরভাবে সংরক্ষণ করে রেখেছি।

সবশেষে ভেবে দেখু’ন, পৌরাণিক যুগ থেকে আজ অব্দি সাহিত্য-সংস্কৃতি কিংবা গল্পে-ঘ’টনায় জীবন্ত এক চরিত্র এই মৎস্যকন্যারা। যারা লোককা’হিনীর গল্প থেকে আধুনিকতার যুগে সমানতালে তাদের মোহনীয় এক চরিত্রে আকৃ’ষ্ট করে রেখেছে মানবজাতিকে।

Published June 22, 2021
By admin
Categorized as Uncategorized
Leave a comment
Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment

Name *

Email *

Website

Save my name, email, and website in this browser for the next time I comment.

Post navigation
Previous post

১ হাজার করে ‘টাকা’ পাবে ‘প্রাথমিক’ বিদ্যালয়ের ‘সব শিক্ষার্থী’

Next post

ঢাকার স’ঙ্গে সারাদেশের বাস চলাচল ব’ন্ধ

Search…
Recent Posts
ফুটবলারের স্ত্রী স্মৃ’তি থেকে আজকের পরীমনি
দে;হ;ব্যবসা করানোর ক্ষো;ভে বাবা-মাসহ বোনকে হ;ত্যা করে মেহজাবিন
যারা বাসার ঠিকানা পাবলিশ ক’রেছেন আমা’র জীবনের নি’রাপত্তায় কোন স’মস্যা হলে দায়ি থাকবেন
শ্রাবন্তীর চার নম্বর হবু বরকে মেনে নিলো পরিবার
গাড়ির পেছনে থাকে নাম্বার প্লেট, জে’নে নিন কোন বর্ণ দ্বারা কী বুঝায় জানা
Recent Comments
A WordPress Commenter on Hello world!
MY BLOG
Proudly powered by WordPress.

About admin

Check Also

যে ৮টি লক্ষণ স’ঙ্গীর মধ্যে দেখলে বিয়ে করবেন

মনের মানুষটিকে সারাজীবনের জন্য জীবনস’ঙ্গী হিসেবে পাওয়া মত আ’নন্দ আর নেই। ভালোবেসে বিয়ে করে একস’ঙ্গে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *