Home / লাইফস্টাইল / ফেরার আগে কোথায় ছিলেন ত্ব-হা?

ফেরার আগে কোথায় ছিলেন ত্ব-হা?

নিখোঁজ হওয়ার ৮ দিনের মাথায় তরুণ ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানকে পাওয়া গেছে ঠিকই, কিন্তু তিনি কোথায় ছিলেন? তিনি কী আত্মগোপনে ছিলেন? নাকি কেউ তাকে আটকে রেখেছিলো? এমনসব প্রশ্নে উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে তার পরিবার-স্বজন ও ভক্তরা।

পরিবারের ভাষ্য মতে- গত বৃহস্পতিবার (১০ জুন) দিনগত রাতে রংপুর থেকে ঢাকার ফেরার পথে রাজধানীর গাবতলী পৌঁছানো মাত্র ত্ব-হা তার গাড়ির চালক মো. আমির, সফরসঙ্গী মো. মুহিদসহ মোট ৪ জন নিখোঁজ হন।

নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে সারা দেশেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ত্ব-হাকে ফিরে পেতে তার পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ভক্তরা বিভিন্ন পোস্ট দেন। যেখানে বারবারই তাকে ফিরে পেতে দাবি জানানো হচ্ছিলো।

এ ঘটনায় গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন ত্ব-হার স্ত্রী সাবেকুন নাহার। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী যদি কোন অন্যায় করে থাকেন তাহলে তাকে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করা হোক।

সে নিখোঁজ কেন? আমি শুধু তার সন্ধান চাই। তাকে যদি আমার কাছে এনে দিতে না পারেন তাহলে আমাকে তার কাছে নিয়ে যান। আমি একজন স্ত্রী হিসেবে জানি না আমার স্বামী কোথায়। আমি আপনাদের কাছে হাত জোর করে মিনতি করতেছি আপনারা আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিন। এর বেশি কিছু চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামী রংপুর থেকে রওনা দিয়েছিলেন বগুড়ার উদ্দেশ্যে। সেখানে তার একটা প্রোগ্রাম ছিলো। কোনও কারণে সেই প্রোগ্রাম না হলে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

পথে মোবাইল ফোনে তিনি (ত্ব-হা) আমাকে জানিয়েছিলেন দুইটি বাইক তাদের বহন করা কারটি অনুসরণ করছিলো। শেষ পর্যন্ত আমাকে তিনি তার গুগল ম্যাপ শেয়ার করেছিলেন সেখানে আমি জানতে পেরেছি মিরপুরের আমার বাসা থেকে তিনি আর ১৭ মিনিটের দূরত্বে আছেন। তখন সময় ছিল রাত ২টা ৩৭ মিনিটের কাছাকাছি।’

ত্ব-হার পরিবারকে আইনি সহায়তা দেওয়া ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসাইন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘একটি গাড়ি ও ৪ জনকে মানুষকে এক সঙ্গে এভাবে গায়েব করে দেওয়া কোন প্রাইভেট সংঘের কাজ হতে পারে বলে আমরা মনে করি না। এখানে কোন সংস্থা বা অন্যকোন মানুষ জড়িত আছে বলে মনে করি।’

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৫ জুন) সাবেকুন নাহার স্বামীকে ফিরে পেতে পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং র‍্যাবের মহাপরিচালক বরাবরও দুটি চিঠি দেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়, রংপুর থেকে গাবতলী আসার পর তিনি তার কয়েকজন সঙ্গীসহ নিখোঁজ হন।

এছাড়াও স্বামীকে ফিরে পেতে আবু ত্ব-হার স্ত্রী সাবেকুন নাহার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে সাবেকুন নাহার প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। কারও সহযোগিতা না পেয়ে আপনার (প্রধানমন্ত্রী) বরাবর শেষ আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনাকে মা ও আমার অভিভাবক মেনে আমার দু’হাত জোড় করে আমার স্বামী নিখোঁজ আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানাচ্ছি।’

গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ত্ব-হা’র সঙ্গে আরও ৩ জন নিখোঁজের খবর শুনেছি। এ বিষয়ে রংপুরে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

এদিকে নিখোঁজ আবু ত্ব-হা আদনানের সন্ধান চেয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিবৃতি দিয়েছে। গত সোমবার (১৪ জুন) অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সাউথ এশিয়ার ভেরিফায়েড টুইটার থেকে এ বিবৃতি দেওয়া হয়।

নিখোঁজ হওয়া তরুণ ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান এর সন্ধান চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন জনপ্রিয় মুফাসসির মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। গত বুধবার (১৬ জুন) রাতে তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এ স্ট্যাটাস পোস্ট করেন। এরপরই স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে মিজানুর রহমান আজহারী লেখেন, ‘এক সপ্তাহ হয়ে গেল। একজন তরুণ দ্বা’য়ী তার দুজন সফরসঙ্গী এবং ড্রাইভার সহ বিলকুল গায়েব। কী আজিব ঘটনা! এমনকি গাড়ীটারও সন্ধান কেউ দিতে পারছেনা। ব্যাপারটা বেশ রহস্যজনক এবং উদ্বেগের। তাদের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনাও যেন- ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হচ্ছে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘গুম একটি মানবতাবিরোধি অপরাধ। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম ও নৃশংসতম অপরাধগুলোর অন্যতম। গুম-সংস্কৃতি চূড়ান্তভাবে আইনের শাসনকে বিপন্ন করে তোলে এবং একটি রাষ্ট্রকে অকার্যকর অবস্থার দিকে নিয়ে যায়। গুমের মিছিল এভাবে লম্বা হতে থাকলে, আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ণ হবে। তাই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত- প্রতিটি গুমের ঘটনার দ্রুত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।’

মুসলিম রাষ্ট্রে একজন অমুসলিমেরও সামাজিক নিরাপত্তা রয়েছে উল্লেখ করে মিজানুর রহমান লেখেন, ‘প্রাণ রক্ষা করা মাক্বাসিদে শারি’আর (শারি’আর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য) অন্যতম লক্ষ্য। একজন নিরপরাধ মানুষের প্রাণনাশ গোটা মানবমন্ডলীর প্রাণনাশের সমতুল্য। রাষ্ট্র তার জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব হচ্ছে- তাদেরকে খুঁজে বের করা। আবু ত্ব-হা আদনান সালামাতে ফিরে আসুক। গুম এবং হয়রানির অবসান ঘটুক।’

এছাড়াও গতকাল বুধবার (১৬ জুন) ফেসবুক লাইভে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব সরকারের। সরকারের কাছে দাবি, তাকে খুঁজে বের করুন। এমনও হতে পারে সে নিজেও গুম হয়ে থাকতে পারে। অথবা কোনো বাহিনীর কাছে সে থাকতে পারে। যেখানেই থাকুক সরকারের উচিত ন্যায়বিচারের স্বার্থে আবু ত্ব-হাকে খুঁজে বের করা। আমি বলতে চাই আমাদের দেশের হাইকোর্টে ব্যবস্থা আছে। ত্ব-হা’র পরিবার চাইলে তাকে খুঁজে বের করতে হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস (ব্যক্তিকে হাজির করতে) রিট মামলা করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আবু ত্ব-হার পরিবার চাইলে এ বিষয়ে আমি আইনি সহায়তা দেব। তারা যদি আসেন আমি হাইকোর্টে এই রিট মামলা করতে চাই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যদি আবু ত্ব-হা থাকেন তাহলে হাইকোর্টের আদেশে অবশ্যই তাকে সামনে আনতে বাধ্য হবেন।

সুমন আরও বলেন, পরিশেষে আমি বলতে চাই আবু ত্ব-হাসহ ৪ জন নিখোঁজ আছেন। এখানে হারানো বিষয় না। বিষয় হচ্ছে, মানুষের মনে যদি এটা আসে এখানে গুম হয়ে গেলে আর বের হয় না মানুষ, তাহলে এটা ন্যায় বিচারের পরিপন্থি হবে।

About admin

Check Also

প্রতি শুক্রবার এই শি’শুর শ’রীরে পবিত্র কোরআন বা হাদিসের একেকটা বানী লেখা ভেসে ওঠে!

উত্তর রাশিয়ার দাগিস্তানে এক মু’সলিম পরিবারে জ’ন্ম নেয় শি’শু আলিয়া ইয়াকুব। প্রতি শুক্রবার তার শ’রীরের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *