Home / লাইফস্টাইল / বৃ’দ্ধা মাকে নিয়ে নৌকায় ১৩ বছর!

বৃ’দ্ধা মাকে নিয়ে নৌকায় ১৩ বছর!

‘মায়ের এক ধার দু’ধের দাম/ কাটিয়া গায়ের চাম/ পাপোশ বানাইলেও ঋ’ণের শোধ হবে না’—গানের এ কথাই যেন সত্য করে তুললেন নুরু মিয়া। আড়াই শতাংশ জমিতে একটি বাড়ি আছে নুরু মিয়ার। তবে সেখানে থাকা হয় না

তাঁর। স্ত্রী চান না নুরুর মা তাঁদের সংসারে থাকুন। অনেক সালিস করেও মীমাংসা হয়নি। কিন্তু মাকে ছাড়া থাকবেন কী করে নুরু! তাই একদিন সব ছেড়ে মাকে নিয়ে নৌকায় উঠলেন তিনি। সেই থেকে নদী-নৌকাই তাঁর আর মায়ের বাড়ি-জমি-সংসার।

সেটা দু-এক মাস বা বছর নয়, ১২-১৩ বছর ধরে নৌকায় মা-ছেলের বসবাস!

নুরু মিয়া নদীতে মাছ ধরেন। এ থেকে যা আয়-রোজগার হয় তা দিয়েই চলে মা-ছেলের সংসার। মায়ের ব’য়স ৯০-এর কাছাকাছি, কিন্তু এখনো তিনি পান না স’রকারি কোনো ভাতা। এ বি’ষয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে ঘুরেও কাজ হয়নি। তাই এখন আর কারো কাছে যান না তাঁরা।

নুরু মিয়ার (৫৩) মায়ের নাম গোলাপী (৮৭), বাবা মৃ’ত আশ্রাফ আলী। মা-ছেলে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজে’লার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের রামরায়কান্দি গ্রামের ভোটার।

জয়ন্তী নদীর পারে কথা হয় বৃ’দ্ধা গোলাপীর স’ঙ্গে। নাম গোলাপী হলেও ছোটবেলা থেকেই তাঁর ক’ষ্টের জীবন। তিনি জানান, তাঁর এক চাচা তাঁদের জমি দ’খলের উদ্দেশ্যে তাঁকে চার-পাঁচ বছর ব’য়সে এক বেদেপল্লীতে ৬০ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিলেন। গোলাপী বলেন, ‘জীবনের প্রতিটি সময় কে’টেছে দুর্দশার মধ্যে। আমার বাবা কুমিল্লায়

অনেক জায়গা-সম্পদের মালিক ছিলেন। আমার নিজের চাচা জায়গার জন্য আমাকে বিক্রি করে দেয় ছোটবেলায়। ৫০-এর প্রথম গণ্ডগোল আমি স্বচক্ষে দেখেছি। অনেক ইতিহাস মনে আছে। যু’দ্ধের (মুক্তিযু’দ্ধ) সময় আমি আমার স্বা’মীকে নিয়ে নদীতে ছিলাম। স্বা’মী ম’রা পর এখনো সেই নদী আমার ঠিকানা!’

গোলাপী আরো বলেন, ‘আমি ঢাকায় এক বস্তিতে ছিলাম। ছেলে আমাকে জো’র করে দেশে নিয়ে আসে। আসার পর থেকে ছেলের বউ আমাকে দেখতে পারে না। বেশ কয়েকবার এটা নিয়ে দরবার সালিস হয়। পরে ছেলে আমাকে নিয়ে নেমে পড়ে নৌকায়। আজও ছেলে এই নৌকা দিয়ে মাছ ধরে। এতে যা রোজগার হয় তা দিয়ে মা-ছেলের সংসার চলে। যদি কিছু না পায় তাহলে না খেয়ে থাকি। এ ছাড়া উপায় কী আর!’

নুরু মিয়া বলেন, “মা ঢাকা থেকে আসার পর বউ সব সময় মায়ের স’ঙ্গে ঝ’গড়া করত। কখনো কখনো তাকে মা’রার জন্য তেড়ে আসত। আমি বাড়িতে থাকতাম না, কাজকাম করার জন্য চলে যেতাম। এলে মা কাঁদত আর বলত। মা আমাকে কয়েকবার বলছে, ‘আমাকে যেখান থেকে আনছত সেখানেই রেখে আস। তাহলে তুই ভালো থাকবি।’

আমি বউকে অনেক বুঝিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। কয়েকবার স্থানীয় দরবার হয়েছে। সব হয়, কিন্তু বউ মানে না। এতে সব শেষ হয়ে যায়। পরে মাকে নিয়ে নিজের টাকা দিয়ে বানানো নৌকা নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। আর বাড়ি ফিরি নাই। এখন নৌকায় মা-ছেলে থাকি। আমি মাছ ধরি। এটা দিয়েই সংসার চলে।’ নুরু জানান, বাড়ির জমিটি তাঁর আর স্ত্রীর নামে। স্ত্রী-স’ন্তানরা বাড়িতেই থাকে।

স’রকারি কোনো সুবিধা পান কি না, জানতে চাইলে নুরু বলেন, ‘চেয়ারম্যান-মেম্বার আর গণ্যমান্য কেউ বাকি নাই যে যাইনি। এখন আর চাই না। তারা মুখ দেখে দেখে দেয়। আমরা গরিব মানুষ, কেউ ব্যবস্থা করে দেয় না।’

এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ পারভেজ লিটন ফোন ধরেননি।

ডামুড্যা উপজে’লা সমাজসেবা কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘এখন আর কারো কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। অনলাইনে আবেদন করলেই হয়। আমি গোলাপীর ব্যাপারে জানি না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

About admin

Check Also

আবু ত্ব-হার মায়ের কাছে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি

ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান ১০ জুন থেকে নিখোঁজ। সঙ্গে রয়েছেন তার সফরসঙ্গী আব্দুল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *