Home / লাইফস্টাইল / ভিক্ষার জমানো টাকা ম’সজিদে দান করলেন প্রতিব’ন্ধী মোজাম

ভিক্ষার জমানো টাকা ম’সজিদে দান করলেন প্রতিব’ন্ধী মোজাম

জ’ন্ম থেকেই শা’রীরিক প্রতিব’ন্ধী। দুই পা ও হাতের তালুতে ভর করে সরীসৃপ প্রা’ণীর মতো ঘুরে বেড়ান বিভিন্ন উপজে’লায়। ভিক্ষা করেই চলে জীবন।

আর তার এই ভিক্ষার জমানো টাকা ম’সজিদে দান করা হয়েছে সাবমা’র্সিবল পাম্প কেনার জন্য। গত একমাস ধরে মু’সল্লিরা সাবমা’র্সিবলের পানিতে ওজু করে ম’সজিদে নামাজ আদায় করছেন।

যার কথা বলা হচ্ছিল তিনি হলেন- প্রতিব’ন্ধী মোজাম হোসেন। বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজে’লার মান্দা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম বাদলঘাটা মৎস্যজীবীপাড়ায়। মোজাম হোসেন পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। তারা মৎস্যজীবী নিম্নবৃত্ত পরিবার।

মাছ শি’কার করেই চলে তাদের সংসার। জ’ন্ম থেকেই শা’রীরিক প্রতিব’ন্ধী তিনি। মেরুদ’ণ্ড সোজা না হওয়ায় দুই পা ও হাতের তালুতে ভর চলে চলেন। ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। একসময় ভিক্ষাবৃত্তকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। একটি থলি কখনো গ’লায় ঝুঁলিয়ে বা কোম’রে বেঁ’ধে ভিক্ষা করে থাকেন।

সংসারে তার দুই ছে’লে ও এক মে’য়ে। বড় ছে’লে শফিকুল ইস’লাম মাছ শি’কারসহ বিভিন্ন পেশা এবং ছোট ছে’লে বাবু অটোরিকশা চা’লিয়ে সংসার চালান। তারা স্ত্রী’সহ আলাদা সংসারে থাকেন। মে’য়েকেও বিয়ে দিয়েছেন। প্রায় আট বছর আগে স্ত্রী’ সুফিয়ার স’ঙ্গে বনিবনা না হওয়া তাকে তালাক দিয়ে অন্যত্র চলে যান।

এরপর মোজাম হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করে একটি টিনের ছাপড়া ঘরে বসবাস শুরু করেন। স্ত্রী’কে নিয়েও মাঝেমধ্যে ভিক্ষা করেন। প্রতিদিন ভিক্ষা করে তার যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাতে হয়। আর ভিক্ষার থলিতে একটু একটু করে জমিয়েছেন টাকা। তা দিয়ে একমাস আগে বাড়ির পাশে পাড়ার ম’সজিদে মু’সল্লিদের ওজুর ক’ষ্ট দূর করতে সাবমা’র্সিবল পাম্প কিনে দিয়েছেন।

স্থানীয় প্রসাদপুর বাজারের বাসিন্দা আল ইম’রান বলেন, মোজাম হোসেনকে অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি ভিক্ষা করেন। কিছুদিন আগে বাজারে গিয়ে দেখি তিনি সাবমা’র্সিবল পাম্প কিনছেন। কেন কিনছেন- জানতে চাইলে বলেন ম’সজিদে দেয়ার জন্য। গরিব মানুষ মহৎ কাজ করেছেন। যুগযুগ বেঁচে থাক এমন মানুষ।

মোজাম হোসেনের বড় ছে’লে শফিকুল ইস’লাম বলেন, আম’রা মৎস্যজীবী গরিব মানুষ। সংসার চালাতে বিভিন্ন পেশার কাজ করতে হয়। বাবা ভিক্ষা করে সংসার চালান। টিনের একটা ছাপড়া ঘরে আলাদা থাকেন। বলতে গেলে ক’ষ্ট করেই বাবা থাকেন।

মৎস্যজীবীপাড়ার প্রধান কামাল হোসেন বলেন, ম’সজিদের একটি নলকূপ আছে যা মাঝেমধ্যেই ন’ষ্ট হয়। এতে মু’সল্লিদের ওজু করতে সমস্যায় পড়তে হতো। অনেক আগে থেকেই তার ইচ্ছে ছিল ম’সজিদের জন্য কিছু একটা করার।

সে ইচ্ছে থেকেই তিনি ম’র্টার কেনার জন্য প্রায় ১৬ হাজার টাকা দিয়েছেন। তার স’ঙ্গে আরও সাড়ে ১১ হাজার টাকা যোগ করে ম’র্টার বসানোর কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ম’সজিদে ৮০-৯০ জন মু’সল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। কিন্তু বর্তমানে ম’সজিদে জায়গা সংকুলন হয় না। এ জন্য বাইরে মু’সল্লিদের নামাজ আদায় করতে হয়। আমাদের ইচ্ছে আছে ম’সজিদ ভে’ঙে বড় পরিসরে করার। কিন্তু অর্থনৈতিক সং’কট থাকায় তা আর সম্ভব হচ্ছে না।

মান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মোজাম হোসেন ভিক্ষা করেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এলাকায় অনেক বিত্তবান আছেন যারা ইচ্ছে করলেই ম’সজিদের জন্য একটি সাবমা’র্সিবল দিতে পারতেন। আমি জনপ্রতিনিধি হয়েও সহযোগিতা করতে পারিনি। একজন প্রতিব’ন্ধী এবং ভিক্ষুক ম’সজিদের জন্য পূর্ণাঙ্গ পানির ব্যবস্থা করে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, প্রতিব’ন্ধী ভাতা ছাড়া অন্য কোনো সুবিধা তিনি পান না। এছাড়া যদি বসতবাড়ির প্রয়োজন হয়ে থাকে আম’রা আগামী বরাদ্দে দেখব।

About admin

Check Also

আবু ত্ব-হার মায়ের কাছে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি

ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান ১০ জুন থেকে নিখোঁজ। সঙ্গে রয়েছেন তার সফরসঙ্গী আব্দুল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *